যাহোক,এই সময়ই এদের অপপ্রচারের সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য শেখ দীদাত তাঁর জীবনের প্রথম বাইবেলটি কিনেন। শুরু হয় একজন কিংবদন্তীর নতুন পথে পথ চলা।যে পথে হেঁটে গিয়েছেন, আরাবী নবী হযরত মুহম্মিাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যে পথের পথিক ছিলেন আবু বকর, ও’মর, ও’সমান, আলী সহ অসংখ্য সত্যপথযাত্রী। যে পথের শেষ হয়েছে মাদীনা মুনাওওয়ারায়।কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বাইবেলে অসাধারন দক্ষতা অর্জন করেন। শিক্ষানবিশ মিশনারিদের এমন সব প্রশ্ন তিনি করতে লাগলেন,যার জবাব তাদের জানা ছিলোনা। ছাত্র মিশনারিরা জবাব দিতে না পেরে তাদের শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করলো। যুবক দীদাতের ডাক পরলো চার্চে। সেখানেও শেখ দীদাত দেখালেন খোদাপ্রদত্ত জ্ঞানের কারিশমা। বাইবেল দিয়েই পরাস্ত করলেন বাইবেলের ভ্রষ্ট অনুসারীদের।
১৯৪২ ইং সনে শেখ দীদাত মাত্র পনরজন দর্শকের সামনে ডারবান মুভি থিয়েটার(আভালন সিনেমা হল) হলে তাঁর জীবনের প্রথম লেকচারটি দেন। বিষয় ছিলো “Muhammad(PBUH): Messenger of Peace”। সেই থেকে শুরু। একসময় তাঁর লেকচারের,দর্শক সংখ্যা চল্লিশ হাজারের মাইলফলক পেরিয়ে যায়। শুধু সাউথ আফ্রিকা না পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর লেকচার শোনার জন্য শত শত মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। খ্যাতনামা খ্রীষ্টান পন্ডিতদের সাথে দর্শকদের উপস্থিতিতে তিনি সরাসরি বিতর্কে অংশ নিতে লাগলেন। যাদের ভেতর Nazarath এর Dr. Anis Shorrosh, Jimmy Swaggart মতো বিখ্যাত খ্রীষ্টান স্কলারদের নাম উল্লেখ্য।Jimmy swaggartএর সাথে তিনি প্রায় আট হাজার দর্শকদের উপস্থিতিতে বিতর্কে অংশ নেন, যার বিষয় ছিলো, “Is The Bible the Word of God“। এ বিতর্ক প্রসঙ্গে খ্যাতনামা Christian লেখক Henry Hock Guan Teh তার Law of evidence নামক আর্টিকেলে লেখেন,“ The debate is on the reasonableness of their competing faiths which was held at Louisiana State University. Great expectations were generated since both were experienced public speakers. Sadly, Swaggart merely relied on TV showmanship to influence the crowd. When Deedat challenged him to prove the Bible as the Word of God, Swaggart simply quoted John 3:16 and claimed that his life was changed by it. Even such a claim was shattered to pieces when Swaggart’s personal sexual weaknesses were later exposed in the press. Although faith is necessary but without being thoughtfully presented its witness would not seem to be credible. ”বিতর্কে অংশ নেয়ার জন্য তিনি Pope John Paul-2 কেও প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেন।যা ছিলো খ্রীষ্টান ধর্মানুসারীদের জন্য এক অবাক করার মতো অপমানজনক। কিন্তু মাননীয় পোপ মহোদয় একটি রুদ্ধদার বিতর্কের বাইরে অন্য কোন বিতর্কে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। ১৯৫৬ ইং সালে শেখ দীদাত ঘনিষ্ট বন্ধু তাহির রসুল এবং গোলাম হোসেন ভাংকরকে নিয়ে Islamic Propagation Center (IPCI) নামের সংগঠন গড়ে তুলেন। পরবর্তিতে একজন মুসলিম দাতার অর্থ সাহায্যে Muslim seminary, As-Salaam নামের আরেকটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এখান থেকে শেখ আহমেদ দীদাতের লেখা ২০ টি বইয়ের লক্ষ লক্ষ কপি সারা পৃথিবীতে বিনামূল্যে বিতরন করা হয়।৩রা মে ১৯৯৬ ইং সনে শেখ দীদাত ‘Lock in syndrome’ নামক এক দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। যা তাঁর ঘাড়ের নীচ থেকে পুরো শরীরকে প্যারালাইজড করে ফেলে। তিনি ভর্তি হন রিয়াদের King Faisal specialist Hospital এ। এখানে তাকে শেখানো হয় কিভাবে চোখ ভাষা ব্যবহার করে (where he was taught to communicate by coordinating his eye movements with an alphabetical chart which he memorized) Message এর আদান-প্রদান করা যায়। এখানেই রচিত হলো আরেকটি অসম্ভব সাফল্যময় অধ্যায়ের,যা শেখ দীদাতের মতো মানুষদের ক্ষেত্রেই কেবল মানায়। শয্যাশয়ী অবস্থাতেও শেখ দীদাত নতুন পদ্ধতিতে চোখের ভাষায় প্রায় দীর্ঘ নয় বছর, তাঁর দাওয়াত কার্যক্রম চালিয়ে গেলেন! মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো তাঁর মিশন। বিষ্ময়কর হলেও সত্যি, এ’ অবস্থাতেও তাঁর অনুপ্রেরনায় বহু খ্রীষ্টান ব্যাক্তি ইসলামের সুশীতল ছাঁয়ায় আশ্রয় লাভে ধন্য হোন।
অসুস্থতার দিনগুলোতেও শেখ দীদাতের মানসিক দৃঢ়তা ছিলো অবিশ্বাস্য রকমের সবল।এই মহান ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সেই সময়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা এক ভদ্রমহিলার উক্তি দিয়ে আমার রচনার ইতি টানছি। “No one can look as majestic or profound as you do on a sick bed, Surely that in itself is evidence that Allah is indeed well pleased with your life’s work.”
আগষ্ট’৮, ২০০৫ইং সনে শেখ আহমেদ দীদাত তাঁর নিজ বাড়ীতে ইন্তেকাল করেন।স্রষ্টা তাঁকে জান্নাত দান করুন। আমিন।
============================


